Sat. Sep 23rd, 2023
How many pillars of Tauhid

তাওহীদের রুকন কয়টি?

How many pillars of Tauhid – তাওহীদের র“কন তথা ’র র“কন:
র“কন (মৌলিক উপাদান) হচ্ছে এমন বিষয়, যার অনুপস্থিতিতে অন্য
একটি বিষয়ের অনুপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে উঠে। র“কন অবশ্যই মূল
বিষয়টির অন্তর্গত হওয়া চাই। যেহেতু র“কন কোন জিনিসের আভ্যন্ত
রীণ বা ভেতরের বিষয়, সেহেতু শুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি এর উপর
নির্ভরশীল। অতএব কোন জিনিসের র“কন ব্যতীত তা সহীহ বা শুদ্ধ হয়
না।

Hariye Jabo Ekdin Ami Lyrics (হারিয়ে যাবো একদিন) By Qari Abu Rayhan

র“কন কি জিনিস, এটা জানার পর আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, যে
তাওহীদ আল­াহ তায়ালা আপনার ওপর ওয়াজিব করে দিয়েছেন, সে
তাওহীদেরও নামাজের মতোই র“কন আছে। নামাজ যেমন তার র“কন
যথা- তাকবীরে তাহরিমা, র“কু, সেজদা, শেষ বৈঠক ইত্যাদি আদায় করা
ব্যতীত শুদ্ধ হয় না, কোনো ব্যক্তি যদি নামাজের কোনো র“কন বাদ দেয়
তাহলে তার নামাজ যেমন ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তেমনি ভাবে কোনো
ব্যক্তি যদি তাওহীদের কোনো একটি র“কন বাদ দেয়, তাহলে সে ব্যক্তিও
আল­াহর একত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারবে না। এমতাবস্থায়
কলেমা ‘লা-ইলাহা ইল­াল­াহ‘ তার কোনো কাজে আসবে না, সে আর
মুসলিম থাকবে না বরং সে কাফেরে পরিণত হয়ে যাবে।

তাওহীদের দুটি র“কন (মৌলিক উপাদান) ঃ
তাওহীদের প্রথম র“কন বা মৌলিক বিষয় হচ্ছে “কুফর বিত্ত্বা-গুত (
) বা তাগুতকে অস্বীকার করা”।
আর দ্বিতীয় র“কন বা মৌলিক বিষয় হচ্ছে “ঈমান বিল­াহ ( ) বা
এক আল­াহর প্রতি ঈমান আনা”।
এর দলীল হচ্ছে, আল­াহ তায়ালার নিম্মোক্ত বানীঃ
অর্থ: “যে ত্বা-গুত (আল­াহ বিরোধী সব কিছুকে) অস্বীকার ও অমান্য করে
আর আল­াহর উপর ঈমান আনে, সে এমন এক সুদৃঢ় ও মজবুত
অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে, যা ভাংগবার নয়।” ( বাকারা, ২ঃ ২৫১)
উপরোক্ত আয়াতের হচেছ ১ম রোকন,
হচেছ ২য় রোকন এবং (শক্ত রজ্জু) বলতে কালেমা
কে বুঝানো হয়েছে। আর এটাই মূলত: তাওহীদের কালেমা।
তা ছাড়া অন্য জায়গায় আল­াহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ

অর্থ: “যারা ত্বগুতের দাসত্ব থেকে দূরে থাকে এবং আল­াহ্ অভিমুখী
হয় তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। (যুমার, ৩৯ ঃ ১৭)
আল­াহর সব নবীই ত্বগুতকে অস্বীকার করার দাওয়াত দিয়েছেন:
অর্থ: “আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে
যে, তোমরা আল­াহ্র ইবাদত কর এবং ত্বগুত থেকে দূরে থাক।”
(নাহল, ১৬ ঃ ৩৬)
(ত্বা-গুত) শব্দের আভিধানিক অর্থ
(ত্বা-গুত) শব্দের আভিধানিক অর্থের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে
‘লিসানুল আরাব’ গ্রন্থে উলে­খ করেছেনঃ

আরবী ভাষাবিদ লাইছ বলেন শব্দের বর্ণটি অতিরিক্ত এবং
শব্দটি বা সীমালংঘন করা শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

অর্থ: “ত্বগুত একবচন হতে পারে বহুবচনও হতে পারে, পুর“ষ ও হতে
পারে মহিলাও হতে পারে।”

অর্থ: “আবু ইসহাক বলেন, আল­াহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ব্যতীত অন্য
সব মাবুদকেই এবং বলে।

শব্দ বিশেষজ্ঞগণ বলেন ঃ যখন কেউ উপরোক্ত এবং এর
অনুসরণ করে তখনই তারা আল­াহকে ছেড়ে ত্বগুতের অনুসারী হয় এবং
আল­াহর ইবাদতের সীমালংঘন করে।
শব্দটি ক্রিয়া। এর (বা ক্রিয়ার মূল ধাতু) হল ; আর
শব্দের অর্থ বন্যা। নদীর পানি প্রবাহ নদীর দুই তীর দ্বারা সীমাবদ্ধ
থাকাই নিয়ম কিন্তু পানি যখনই তার তীরের সীমালংঘন করে উপচে উঠে
দু’কুল ভাসিয়ে নিয়ে যায় তখনই তাকে আমরা বন্যা বলি। তদ্র“প মানুষ
আল­াহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং
তাঁরই আইন মেনে চলবে- এটিই আল­াহর বিধান। কিন্তু ঐ মানুষ যখন
আল­াহর দ্বীনের পথ থেকে সরে পড়বে এবং অন্য পথের বিশ্বাস করবে,
অনুসরণ করবে তখনই সে সীমালংঘন করবে। তাই এ বলা
হয়েছে অথার্ৎ যে বা যারা আনুগত্যের
ক্ষেত্রে সীমালংঘন করে ( ) তারাই ত্বগুত। সুতরাং যে
কোন মানুষের ক্ষেত্রেই আল­াহর আইন ব্যতীত অন্য আইনের প্রণয়ন ও
অনুসরণ করাই হবে ত্বগুতের অন্তর্ভূক্ত।

(ত্বা-গুত) এর পারিভাষিক অর্থ
ত্বা-গুত সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য:
ইমাম ইবনে জারীর তাবারী বলেনঃ ঐ সকল আল­াহদ্রোহী যারা আল­াহর
নাফরমানীতে সীমালংঘন করেছে এবং মানুষ যাদের আনুগত্য করে। সে
মানুষ, জ্বীন, শয়তান, প্রতীমা, বা অন্য কিছুও হতে পারে। (তাফসীরে
তাবারী : ৩/২১)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেনঃ আল­াহ ছাড়া যাদের আনুগত্য করা হয়
তারাই ত্বা-গুত। (আল ফাতাওয়া : ২৮/২০০)
ইবনুল কাইয়্যিম বলেনঃ তাগুত হচ্ছে ঐ সকল মা’বুদ, লিডার, মুর“ব্বী
যাদের আনুগত্য করতে গিয়ে সীমালংঘন করা হয়। আল­াহ এবং তার
রাসূল কে বাদ দিয়ে যাদের কাছে বিচার-ফয়সালা চাওয়া হয় অথবা
আল­াহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করা হয়। অথবা আল­াহর পক্ষ থেকে
কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়া আনুগত্য করা হয়। অথবা আল­াহর আনুগত্য
মনে করে যে সকল গাইর“ল­াহর ইবাদত করা হয়। এরাই হল পৃথিবীর বড়
বড় তাগুত। তুমি যদি এই তাগুতগুলো এবং মানুষের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য
কর তবে বেশীর ভাগ মানুষকেই পাবে, যারা আল­াহর ইবাদতের পরিবর্তে
তাগুতের ইবাদত করে। আল­াহ এবং তার রাসূলের কাছে বিচার-ফয়সালা
চাওয়ার পরিবর্তে তাগুতের কাছে বিচার-ফয়সালা নিয়ে যায়। আল­াহ এবং
রাসূলের আনুগত্য করার পরিবর্তে তাগুতের আনুগত্য করে। (এ’লামুল
মুওয়াক্কীঈন : ১/৫০)
ইমাম কুরতুবী (রহ:) বলেনঃ ত্বা-গুত হচ্ছে গণক, যাদুকর, শয়তান এবং
পথভ্রষ্ট সকল নেতা। (আল জামে লি আহকামিল কুরআন : ৩/২৮২)
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাবঃ ত্বা-গুত হচ্ছে ঐ সকল মা’বুদ,
লিডার, মুর“ব্বী, আল­াহর পরিবর্তে যাদের আনুগত্য করা হয় এবং তারা
এতে সন্তুষ্ট। (মাজমুআতুত তাওহীদ : পৃ:৯)
ইমাম শানকিত্বী বলেনঃ আল­াহ ছাড়া যাদের ইবাদত করা হয় তারাই
তাগুত। আর বড় অংশ হচ্ছে শয়তানের জন্য। ইরশাদ হচ্ছে ঃ
হে বনী-আদম! আমি কি
তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের ইবাদত করো না। (ইয়াসীন,
৩৬ঃ ৬০) (তাফসীরে আদওয়াউল বয়ান : ১/২২৮)

ইমাম আব্দুর রহমান বলেনঃ আল­াহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করা হয়,
যারা বাতিলের দিকে আহ্বান করে এবং বাতিলকে সজ্জিত-মÊিত করে
উপস্থাপন করে, আল­াহর এবং তার রাসূলের আইন বাদ দিয়ে মানব রচিত
আইন দ্বারা বিচার-ফয়সালা করার জন্য যাদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে।
এমনিভাবে গণক, যাদুকর, মূর্তিপূজকদের নেতা যারা কবরপূজার দিকে
মানুষকে আহ্বান করে, যারা মিথ্যা কেচ্ছা-কাহিনী বর্ণনা করে মাজারের
দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করে। এরা সকলই তাগুত। এদের লিডার হচ্ছে
শয়তান। (আদদুরার“স সানিয়্যাহ : ২/১০৩)
ইমাম নববী (রহ:) বলেনঃ আল­াহ ছাড়া যাদের ইবাদত করা হয় তারাই
তাগুত। এটাই লাইছ, আবু উবাইদা, কেসায়ী এবং বেশীর ভাগ আরবী
ভাষাবিদদের অভিমত। (শরহে মুসলিম : ৩/১৮)
সাইয়্যেদ কুতুব বলেনঃ যারা সত্যকে অমান্য করে, ইবাদতের ক্ষেত্রে
আল­াহর দেওয়া সীমারেখা অতিক্রম করে, আল­াহর দেওয়া শরীআহ’র
কোন তোয়াক্কা করে না। ইসলামী আক্বিদাহ-বিশ্বাসের কোন গুর“ত্ব রাখে
না। এরা সবাই তাগুত। (ফি যিলালিল কুরআন: ১/২৯২)
মুহাম্মাদ হামেদ আল-ফক্বী বলেনঃ আল­াহর একনিষ্ঠ ইবাদত করা হতে
যারা মানুষকে বিরত রাখে এবং আল­াহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করা হয়
(চাই সে জ্বিন, মানুষ, গাছ, পাথর যাই হোক না কেন)। এমনিভাবে যারা
আল­াহর নাযিলকৃত বিধানকে বাদ দিয়ে মনগড়া আইনে হুদদ, কেসাস,
যিনা-ব্যভিচার, মদ এবং সুদ ইত্যাদির বিচার-ফয়সালা করে। (হাশিয়া
ফতহুল মুজিদ : পৃ: ২৮২)

কিছু উলামায়ে কেরাম বলেনঃ ত্বা-গুতবলতে ঐ সকল ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও
প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়, যারা আল­াহর বির“দ্ধে বিদ্রোহ করেছে, আল­াহর
গোলামী করার পরিবর্তে নিজেরা ইলাহ এবং রবের আসন দখল করেছে।
(আল-মুসতালাহাত আল-আরবাআ’হ : পৃ: ৭৯ ও ১০১)
অর্থ: “ত্বগুত ঐ ব্যক্তি যে নিজে পথভ্রষ্ট হয় এবং অপরকে পথভ্রষ্ট করে।”
অর্থ: ত্বগুত ঐ ব্যক্তি যে তার মাবুদের সীমানা অতিক্রম করল।


মোটকথা ঃ আল­াহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করা হয় -এবং তারা এতে
সন্তুষ্ট- চাই সেটা ইবাদতের কোন অংশ বিশেষ হোক তারাই তাগুত।
আল­াহর পরিবর্তে যাদের কাছে বিচার-আচার নিয়ে যাওয়া হয়, আল­াহর
পরিবর্তে যাদেরকে ডাকা হয়, যাদের নামে মান্নত করা হয়, পশু যবেহ
করা হয় এবং আল­াহ তা’আলার বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষমতা যাদের জন্য
সাব্যস্ত করা হয় তারাও তাগুত।
চারটি আয়াতে (ত্বগুত) এর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ
ক. ত্বগুত হল সেই যার ইবাদত করা হয়ে থাকে, যাকে মান্য
করা হয়, এবং যার একনিষ্ঠ অনুসরণ করা হয়, অথচ তা হারাম এবং
নিষিদ্ধ। দলীল ঃ
“যারা ত্বগুতের দাসত্ব থেকে দূরে থাকে এবং আল­াহ্ অভিমুখী হয় তাদের
জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। (যুমার, ৩৯ ঃ ১৭)
খ. ত্বগুত হল এমন যার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা হয়।
দলীল ঃ
অর্থ: “তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে,
যারা মান্য করে প্রতিমা ও তাগুতকে এবং কাফেরদেরকে বলে যে, এরা
মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে।” (নিসা : ৫১)
গ. ত্বগুত হল এমন যার নিকট বিচার-ফয়সালা চাওয়া হয়।
দলীল ঃ
অর্থ: “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার
প্রতি অবতর্ীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং
আপনার পূর্বে যা অবতর্ীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে ত্বগুতের কাছে
নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য
না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে
ফেলতে চায়।” (নিসা, ৪ ঃ ৬০)
ঘ. ত্বগুত হল সেই যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একদল প্রাণন্ত
কর সংগ্রাম করে। দলীল ঃ
অর্থ: “যারা ঈমানদার তারা জিহাদ করে আল­াহ্র পথে। পক্ষান্তরে যারা
কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে সুতরাং তোমরা লড়াই করতে
থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত
খুবই দুর্বল।”(নিসা: ৭৬)
সুতরাং পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে ত্বাগুত সেই শক্তি, যার
ইবাদত করা হয়, যার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা হয়, যার কাছে
বিচার-ফয়সালা চাওয়া হয় এবং যাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, যাকে প্রতিষ্ঠা
করার জন্য প্রাণান্তকর সংগ্রাম করা হয়। আর একমাত্র কাফিররাই এই
ত্বগুতের ইবাদত করে।
ধন্যবাদ সবাইকে।